ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেছেন, আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজন ছাড়া কোনো পরিস্থিতিতেই বলপ্রয়োগ করা যাবে না। তবে কেউ আইন ভাঙার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো যাবে না।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সে নির্বাচনকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং পার্টির অফিসার ও ফোর্সদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
এসপি নাজির আহমেদ বলেন, নির্বাচনী পরিবেশে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা কিংবা সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত, বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। “আমরা কারও প্রতিপক্ষ নই, আমরা আইনের পক্ষে। আমাদের আচরণেই প্রমাণ হবে বাংলাদেশ পুলিশ একটি নিরপেক্ষ, দক্ষ ও জনগণবান্ধব বাহিনী”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে, ভয়ভীতি ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনের সময় শালীন আচরণ, ধৈর্য ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের উসকানি, প্ররোচনা বা চাপের মুখে পড়ে আবেগতাড়িত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এসপি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে—এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী। সততা, শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ব্রিফিংকালে নির্বাচনকালীন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং পার্টির দায়িত্বও সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়। মোবাইল পার্টি ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল দিয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তারা ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়তা করবে এবং যে কোনো বেআইনি কার্যক্রম, ভীতি প্রদর্শন বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে, স্ট্রাইকিং পার্টি কুইক রেসপন্স টিম হিসেবে গুরুতর বা আকস্মিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সহিংসতা, সংঘর্ষ কিংবা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা প্রতিহত করবে। পাশাপাশি ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, রোববার থেকে চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানায় মোট ১১৯টি মোবাইল টিম ও ৩০টি স্ট্রাইকিং টিমে ৬২৬ জন পুলিশ সদস্য নির্বাচনকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

