ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার বিকেলে শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানে ‘ব্যাপক বিমান হামলা’ শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এসব বিস্ফোরণ ঘটে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে ছোড়া কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এ আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে মঙ্গলবার ইরানের প্রধান নেতৃত্ব নির্ধারণী পর্ষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর সচিবালয় ভবনে হামলা চালানো হয়। কোম শহরে ধারণ করা ভিডিওতে ভবনটিতে আঘাত হানার দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতার সমন্বয়ে গঠিত এই পরিষদ দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে। শনিবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের জানিয়েছে, আক্রান্ত ভবনটি পুরনো এবং বর্তমান অধিবেশনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল না। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, হামলার আগে ভবন খালি করা হয়েছিল এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, শনিবার থেকে তারা ইরানে দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ইরানে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তাদের বিবেচনায় থাকা ব্যক্তিদের অনেকেই আর জীবিত নেই।
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার চেষ্টা করছিল, তবে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভারত মহাসাগরের দিয়োগো গার্সিয়ায় যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে শুরুতে সম্মতি না দেওয়ায় যুক্তরাজ্য ও স্পেনের প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

