দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। এই ধারাবাহিকতায় ২০০০-এর দশকের শুরুতে যাত্রা শুরু করে ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। সম্প্রতি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার বিকাশ, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বণিক বার্তার নিয়মিত আয়োজন ‘অন্তর্দৃষ্টি’-তে কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী।
তিনি বলেন, একসময় সাধারণ একটি এনজিওগ্রামের জন্যও রোগীদের ভারতে যেতে হতো। বর্তমানে দেশে অর্ধশতাধিক পূর্ণাঙ্গ কার্ডিয়াক সেন্টার রয়েছে এবং মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬৫ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে বেসরকারি খাত থেকে। ১৮ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশে রাষ্ট্রের একার পক্ষে স্বাস্থ্যসেবার সম্পূর্ণ চাপ বহন করা সম্ভব নয় বলেই বেসরকারি খাতের বিকাশ ঘটেছে।
চিকিৎসা ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা খরচ তুলনামূলকভাবে কম। হার্টের বাইপাস সার্জারি দেশে যেখানে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকায় সম্ভব, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তা কয়েকগুণ বেশি। তার মতে, মূল সমস্যা ব্যয় নয়; বরং স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থার অভাব। উন্নত দেশগুলোতে স্বাস্থ্যবীমা বাধ্যতামূলক হলেও বাংলাদেশে এখনো তা জনপ্রিয় হয়নি।
বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে তিনি স্বীকার করেন, কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসা—যেমন অঙ্গ প্রতিস্থাপন—এখনো দেশে পূর্ণমাত্রায় বিস্তৃত হয়নি। তবে উন্নত প্রযুক্তি ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিদেশমুখিতা কমবে বলে মনে করেন তিনি।
হাসপাতালের মান ও ব্যয়ের ভিন্নতা প্রসঙ্গে ডা. চক্রবর্ত্তী বলেন, সেবার মান, সরঞ্জামের গুণগত পার্থক্য ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রাপ্যতা ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। উন্নতমানের মনিটর, ভেন্টিলেটর ও ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ সেবা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ বেশি লাগে। তবে রোগী ভর্তির সময় সম্ভাব্য ব্যয়ের স্বচ্ছ ধারণা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যবীমা জনপ্রিয় না হওয়ার পেছনে জনগণের অজ্ঞতার চেয়ে বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতাকে দায়ী করেন তিনি। আস্থা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর ভূমিকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন।
সরকার যদি চিকিৎসার মূল্যসীমা নির্ধারণ করে, সেটিকে নীতিগতভাবে স্বাগত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন ডা. চক্রবর্ত্তী। তবে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে হাসপাতালের পরিচালন ব্যয় ও সেবার মান বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, বর্তমানে ৫০০ শয্যার ‘ইউনিভার্সাল দ্য মেডিসিটি’ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের নির্মাণকাজ চলছে। লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা দেশেই সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিত করা এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জন্য আস্থার কেন্দ্র হয়ে ওঠা।

