দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট নেই এবং আগামী এপ্রিল মাসেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, মার্চ মাসে যেভাবে সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে, একই ধারা এপ্রিলেও অব্যাহত থাকবে এবং গত বছরের তুলনায় সরবরাহ কমবে না।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জনগণকে অপ্রয়োজনীয় মজুত ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ক্রয় করলে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। সরকার দিনরাত কাজ করছে যাতে জ্বালানি খাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানিতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকার বিকল্প ব্যবস্থায় কাজ করছে বলে জানান মুখপাত্র। জ্বালানি তেল সংগ্রহে সরকার-টু-সরকার ও উন্মুক্ত দরপত্র—উভয় পদ্ধতিই চালু রয়েছে। সরবরাহ চেইন সচল রাখতে অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি ও ক্রয় কমিটিতে একাধিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে; অনুমোদন পেলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে তিনি একে ‘মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আতঙ্কজনিত ক্রয়ের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচারের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই বলেও জানান তিনি, তবে এ বিষয়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
এলপিজি সরবরাহ নিয়েও আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, মার্চ মাসে দেশে প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৪ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যেখানে গড় মাসিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টন। ফলে এ খাতে কোনো ঘাটতি নেই। এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস থেকে আমদানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালুর কাজ চলছে, যা শিগগিরই পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। পাশাপাশি কিছু জেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও কার্যকর করা হয়েছে।
ডিজেলের মজুত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ‘ব্যবহারযোগ্য মজুত’ এবং ‘ডেড স্টকসহ মোট মজুত’—এই দুইভাবে হিসাব করে থাকে। ফলে তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই। মজুতদারির বিষয়ে সরকার নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

