আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও রাজনীতি থেকে আপাতত দূরে অবস্থান করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বর্তমানে তিনি জীবনের এক ভিন্নধর্মী সময় পার করছেন, যেখানে চিরচেনা ব্যস্ত সূচির পরিবর্তে রয়েছে কিছুটা অবসর ও আত্মপর্যালোচনার সুযোগ। এই সময়টিকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।
একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব তার বর্তমান জীবন, দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের বাইরে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দেশের জন্য গভীর টান অনুভব করছেন। দ্রুত দেশে ফিরতে পারার আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন সাকিব। তিনি বলেন, এই সময় তাকে পরিবারের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানোর পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে।
ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়াননি উল্লেখ করে তিনি জানান, সুযোগ পেলে আবারও মাঠে ফিরতে চান। একইসঙ্গে রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের কার্যক্রম শুরু হলে তিনি আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারেন। তার মতে, রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম, যেখান থেকে দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জন্য কিছু করতে পারার ইচ্ছা তার এখনও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাকিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে এবং একটি স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে, যেখানে সব দল সমান সুযোগ পাবে এবং জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধিকে বেছে নেবে।
জুলাই আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয় এবং প্রতিটি জীবনই অমূল্য। তিনি প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, পাশাপাশি নিরপরাধ কাউকে যেন অন্যায়ভাবে জড়ানো না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাকিব বলেন, দেশের মানুষের জন্য স্বস্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনা তাদের দায়িত্ব। কাউকে বাদ দিয়ে বা দূরে সরিয়ে রেখে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব নয় বলেও তিনি মনে করেন।

