জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং ভর্তুকির মাধ্যমে বাজারের চাপ সামাল দিতে সরকার কাজ করছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে পিআইডির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং আগামী পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। প্রকল্পটির জন্য এডিপির আওতায় প্রায় ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে সরকার এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৫৪ জেলায় খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাণিজ্য খাতে রমজান মাসে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যক্রম সফল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১ হাজার ৬০৬টি মামলায় প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাক সেলের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে হাম রোগের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮টি উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩ মে থেকে সারাদেশে একযোগে টিকা প্রদান শুরু হবে। ২১ মে’র মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, টিকা সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যার পেছনে অতীতের গাফিলতির প্রভাব রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নৌ পরিবহন খাতে সব নৌযানকে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ খাতে এক কোটি ৫০ লাখ চারা উৎপাদন এবং প্রায় ১৯৮ একর বনভূমি উদ্ধার করে পুনরায় বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া উন্নয়নে নতুন প্রতিভা অন্বেষণে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ৩০ এপ্রিল উদ্বোধন হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদকজয়ী ১২৯ জন খেলোয়াড়কে মাসিক ভাতা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে এবং তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা এবং বীমা হিসেবে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সড়ক পরিবহন খাতে গণপরিবহনে জিপিএস চালু, অনিয়ন্ত্রিত বাস কাউন্টার বন্ধ এবং ফেরিঘাটে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতি খাতে শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় আগ্রহ বাড়াতে নতুন প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ অব্যাহত রয়েছে।

