গ্রিস ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অনলাইন আসক্তি কমাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউরোপজুড়ে কঠোর ডিজিটাল নীতিমালা প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছে দেশটি।
বুধবার এক ঘোষণায় গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস বলেন, ক্রমবর্ধমান মানসিক উদ্বেগ, ঘুমের ব্যাঘাত এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের আসক্তিমূলক নকশা শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তরুণদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকার ফলে শিশুদের মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না এবং অন্যদের সঙ্গে তুলনা ও অনলাইন মন্তব্যের কারণে তারা মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে—অনেক শিশু ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না, সহজেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে এবং মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে। ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রিক নাগরিক এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এরই মধ্যে গ্রিস সরকার স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে এবং কিশোরদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবস্থা চালু করেছে। মিতসোতাকিস বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রিস পথপ্রদর্শক দেশগুলোর একটি হবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও একই পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করে বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে নজির স্থাপন করে। তবে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও আইন মানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশ্বের আরও বেশ কিছু দেশ, যেমন যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও পোল্যান্ড ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনকে লেখা এক চিঠিতে মিতসোতাকিস পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রস্তাব করেছেন, ইইউ জুড়ে ডিজিটাল ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৫ বছর নির্ধারণ এবং সব প্ল্যাটফর্মে বাধ্যতামূলক বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করা।
এছাড়া, আইন অমান্যকারীদের জন্য অভিন্ন শাস্তিমূলক কাঠামো গড়ে তোলা এবং ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো ইইউ অঞ্চলে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

