যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্ভাব্য বোমা হামলার হুমকি তিনি প্রত্যাহার করেছেন এবং আগামী দুই সপ্তাহের জন্য যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছেন।
তেহরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তথ্যমতে, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পার্সি এ বিষয়ে বিশ্লেষণে বলেন, ট্রাম্প মূলত বাধ্য হয়েই এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছেন, কারণ তার সামনে কার্যকর কোনো বিকল্প ছিল না। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হলে তা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারত।
ত্রিতা পার্সি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আঘাত হানতে পারত। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠত।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার জন্য ট্রাম্পের একটি কৌশলগত পথ প্রয়োজন ছিল। এ কারণেই তিনি দিনের শুরুতে কঠোর হুমকি দিয়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেন, যাতে সন্ধ্যায় হওয়া সমঝোতাটি তার শর্তে হয়েছে বলে মনে হয়। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আলোচনাটি ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এগোচ্ছে, যা তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত।

