রাজধানীসহ সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে আট মাস বয়সী যমজ শিশু হাসান ও হোসেনের জীবনযুদ্ধ হৃদয়বিদারক বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেছে। জন্মের সময়ই মা সুমাইয়ার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে তারা বড় হচ্ছিল ফুফু ও নানির কাছে।
গত ২৭ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসানের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে হামকে সন্দেহ করছেন। অপরদিকে, আর্থিক সংকটের কারণে হোসেনের চিকিৎসা চলছে বাড়িতেই।

শিশুদের বাবা দিনমজুর সোহেল রানা জানান, সন্তানদের বাঁচাতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাসানকে রক্ষা করতে পারেননি। হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সামর্থ্যও তার নেই। তিনি অসহায় কণ্ঠে বলেন, ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক হাম নিয়ে মারা গেছে ১২৮ শিশু। মোট শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৯। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৮ শিশু এবং সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৮৮৩ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের ৬৯ শতাংশের বয়স দুই বছরের নিচে এবং ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার ঘাটতি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার দুর্বলতাই সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
হাসানকে বাঁচাতে তার স্বজনেরা বরগুনা থেকে শুরু করে বরিশাল ও ঢাকা পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ২৫ দিন ঘুরেছেন। চিকিৎসা ও যাতায়াতে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসানের মৃত্যু হয়।

বর্তমানে হোসেন নানির কাছে রয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছে। তবে উন্নত চিকিৎসার অভাবে তার জীবনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সোহেল রানা জানান, তিনি একটি ইটভাটায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন এবং দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করেন। স্ত্রী ও সন্তানের চিকিৎসায় আগেই ঋণের বোঝা রয়েছে। নতুন করে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

