মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো অকটেনবাহী একটি জাহাজ দেশে এসে পৌঁছেছে। ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের জাহাজটি ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি ভিটল এই চালান সরবরাহ করেছে এবং তেলটি মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে।
জাহাজ থেকে অকটেন খালাস ও বাজারে সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীরুল হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে অকটেনের তেমন কোনো সংকট নেই এবং নতুন এই চালান বাজারে সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
অকটেন মূলত মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অকটেনের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। অনেক স্থানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও গ্রাহকরা অকটেন পাননি এবং বেশ কিছু স্টেশনে ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড টানানো হয়। এক মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবে নতুন এই চালান সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিপিসি দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি আমদানিকারক সংস্থা। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট জ্বালানি সরবরাহের মধ্যে অকটেনের অংশ ছিল ৬ শতাংশ। ওই সময়ে দেশে মোট ৪ লাখ ১৫ হাজার টন অকটেন বিক্রি হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক দেশীয়ভাবে উৎপাদিত এবং বাকি অংশ আমদানিনির্ভর।
৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে অকটেনের মজুত ছিল ১০ হাজার ৫২৬ টন। মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২২২ টন। সরবরাহ সংকটের কারণে এপ্রিলে দৈনিক গড় বিক্রি কিছুটা কমিয়ে ১ হাজার ১১৪ টনে নামানো হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর মার্চে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে ১০টি জাহাজ দেশে এলেও নির্ধারিত আরও ৭টি জাহাজ আসতে পারেনি। তবে গত মাসে অকটেনবাহী কোনো জাহাজ আসার সূচি ছিল না।

