শিক্ষাখাতে আগামী দিনে বাজেট আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে এই বাড়তি বাজেট যথাযথ খাতে ব্যয় নিশ্চিত করতে সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শহীদ ওসমান বিন হাদী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যয়ের কোনো বিকল্প নেই। তিনি কারিগরি শিক্ষাকে দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সেমিনারে তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান নানা সমস্যা, শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ার কারণ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার উপায় সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে শিক্ষার্থীরা অনিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা গ্রহণে বিলম্ব এবং কারিকুলামের সঙ্গে সিলেবাসের অসামঞ্জস্যসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি পেলেও তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হলে কোন খাতে ব্যয় করা প্রয়োজন, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার ইতোমধ্যেই এ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই কারিগরি শিক্ষাকে অবহেলা না করে এটিকে উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে হবে বলেও তিনি জোর দেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতি গঠনের লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী আসেন ও যান, কিন্তু সবারই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হয়। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া (এনডিসি), কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আবু হানিফ প্রমুখ।

