বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্ব যখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি, ডেটা অর্থনীতি এবং জ্ঞাননির্ভর উন্নয়নের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। গত ১২ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষের রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বার্তা বহন করে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য জ্ঞাননির্ভর নতুন বাংলাদেশ গঠনের মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী যথার্থভাবেই বলেছেন, মুখস্থনির্ভর ও সনদকেন্দ্রিক শিক্ষা দিয়ে আর টিকে থাকা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই বক্তব্য কেবল শিক্ষানীতি নয়; বরং হতে হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি।
প্রধানমন্ত্রীর নিশ্চয়ই বোঝাতে চেয়েছেন যে, আমাদেরকে গতানুগতিক শ্রমভিত্তিক অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে উত্তরণের মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। এখানে জ্ঞান হবে মূল সম্পদ; উদ্ভাবন হবে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি; বিশ্ববিদ্যালয় হবে উন্নয়নের কেন্দ্র; তরুণ জনগোষ্ঠী হবে ইনোভেশন ক্যাপিটাল এবং প্রযুক্তি হবে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার ভিত্তি।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত স্বল্পমূল্যের শ্রমনির্ভর কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমশক্তি রপ্তানি এবং গার্মেন্টস শিল্পের শুরু করেছিলেন। এই দুটি সেক্টরই এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। আগামী বিশ্বের অর্থনীতি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে শ্রম বা প্রাকৃতিক সম্পদের চেয়ে ‘মানবসম্পদ, গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন’ অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা হবে ‘নলেজ ইকোনমি’র প্রতিযোগিতা। প্রধানমন্ত্রী আমাদের নতুন বাংলাদেশের সামগ্রিক রূপান্তর চাইছেন বলে আমি মনে করি। সেই রূপান্তরের মূল কথা হচ্ছে শ্রমনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তে জ্ঞাননির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো স্থাপন করা।
জ্ঞাননির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো: এই কাঠামোর মূল সূত্রটি হচ্ছে, জ্ঞান + উদ্ভাবন + প্রযুক্তি + মানবসম্পদ = অর্থনৈতিক উন্নতি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা।
বাংলাদেশ যদি আগামী দুই দশকে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে সত্যিকারের উন্নত অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হতে চায়, তবে আমাদের গতানুগতিক শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে পর্যায়ক্রমে জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় হবে জাতীয় উন্নয়নের ইঞ্জিন: বিশ্বের সফল রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, শক্তিশালী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে ওঠে না। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, কিংবা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; তারা উদ্ভাবন, স্টার্টআপ, প্রযুক্তি ও জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘শিখন বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে ‘গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়’-এ রূপান্তর করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক উন্নয়ন মডেল হওয়া উচিত পর্যায়ক্রমে, শিক্ষা → গবেষণা → উদ্ভাবন → স্টার্টআপ → বাণিজ্যিকীকরণ → অর্থনৈতিক প্রভাব। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থাকবে না; বরং -শন হাব, স্টার্ট-আপ জেনারেটর (ইনকিউবেশন), পলিসি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং হিউম্যান ক্যাপিটাল ফ্যাক্টরি-তে পরিণত হবে। আমার মতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় বলতে এই মডেলটিকেই বুঝিয়েছেন।
উচ্চশিক্ষা রূপান্তরের ছয়টি কৌশলগত স্তম্ভ:
১. মানব সম্পদ উন্নয়ন বিপ্লব: বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো দক্ষ মানবসম্পদ। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে ‘ফিউচার-রেডি’ করতে হবে। সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্টস, ম্যাথমেটিক্স (এসটিইএএম) শিক্ষা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স লিটারেসি, ডিজিটাল স্কিলস, ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং, ক্রিয়েটিভিটি এবং গ্লোবাল কমিউনিকেশন দক্ষতা ছাড়া ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে টিকে থাকা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন কারিকুলাম মডার্নাইজেশন, টিচার ট্রান্সফরমেশন, স্কিলবেইজড ইউনিভার্সিটি এবং লাইফ-লং লার্নিং প্ল্যাটফর্ম। প্রধানমন্ত্রী সময়োপযোগী কারিকুলাম ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তা এই ‘মানব পুঁজি বিপ্লব’-এরই অংশ।
২. গবেষণা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশে এখনও গবেষণা সংস্কৃতি দুর্বল। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং উদ্ভাবন–সবকিছুর কেন্দ্রেই রয়েছে গবেষণা। তাই প্রয়োজন (১) রিসার্চ ইউনিভার্সিটি, (২) ন্যাশনাল ইনোভেশন ফান্ড, (৩) প্যাটেন্ট ইকোসিস্টেম, (৪) স্টার্ট-আপ ইনিকিউবেশন এবং (৫) ইন্ডাস্ট্রি– একাডেমিয়া কোলাবোরেশন। গবেষণাকে শুধু জার্নাল প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ না রেখে গবেষণাভিত্তিক সমাধানকে কমার্শিয়ালাইজেশনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। রিসার্চ → ইনোভেশন → ইনকিউবেশন → কমার্শিয়ালাইজেশন এই চক্রটিই হবে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি।
৩. ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট বাংলাদেশ: ডিজিটাল বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপ হওয়া উচিত ‘ইন্টেলিজেন্ট বাংলাদেশ’। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গভর্ন্যান্স, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, এডুকেশন টেকনোলজি, ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, এবং ডেটা ইকোনোমি–এসব খাত আগামী দশকের অর্থনৈতিক শক্তি নির্ধারণ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিকস, ডেটা অ্যানালাইসিস, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং সাইবার সিকিউরিটি বাধ্যতামূলক দক্ষতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
৪. উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপনির্ভর অর্থনীতি: বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনও চাকরিপ্রার্থী তৈরি করে; কিন্তু ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে প্রয়োজন উদ্যোক্তা বা জব ক্রিয়েটর। প্রধানমন্ত্রী যে সিড ফান্ডিং, ইনোভেশন গ্রান্ট, এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম-এর কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। জাতীয় লক্ষ্য হওয়া উচিত–‘দশ লাখ উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা তৈরি’।
৫. পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অর্থনীতি: ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অবশ্যই ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট হতে হবে। রিনিউয়েবল এনার্জি, স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার, গ্রিন টেকনোলজি এবং সার্কুলার ইকোনোমিকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
৬. সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে হলে প্রশাসনিক সংস্কার অপরিহার্য। প্রয়োজন (১) অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি, (২) এভিডেন্সবেইজড পলিসি-মেকিং, (৩) ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, (৪) ওপেন ডেটা ইকোসিস্টেম এবং (৫) ইনোভেশন-ফ্রেন্ডলি রেগুলেশন।
বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং কেন গুরুত্বপূর্ণ: বাংলাদেশে এখনও অনেকে বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংকে শুধু মর্যাদার বিষয় মনে করেন। বাস্তবে এটি জাতীয় অর্থনীতি, বিদেশি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজন- রিসার্চ কেপিআই; ডেটা-ড্রাইভেন গভর্ন্যান্স; ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন; একাডেমিক ভিজিবিলিটি এবং ইনোভেশন ম্যাট্রিক্স। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি আমাদের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে; কিন্তু গবেষণা ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও ডেটাচালিত নীতির অভাবে আমরা পিছিয়ে আছি।
২০২৬–২০৪৫: রূপান্তরের রোডম্যাপ: আগামী দুই এ ক্ষেত্রে তিন ধাপের রোডম্যাপ প্রয়োজন বলে মনে করি।
ধাপ ১ (২০২৬-২০৩০)–ফাউন্ডেশন বিল্ডিং: এই পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে থাকবে- শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, গবেষণা তহবিল, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম
ধাপ ২ (২০৩০-২০২৫)–এক্সপানশন অ্যান্ড গ্লোবাল ইন্টিগ্রেশন: এই পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে থাকবে- আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইকোনমি, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি পার্টনারশিপ, নলেজ ইন্ডাস্ট্রি এবং স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং।
ধাপ ৩ (২০৩৫-২০৪৫)–নলেজ সুপারস্ট্রাকচার: রিজওনাল ইনোভেশন লিডার, হাই-ইনকাম নলেজ ইকোনোমি এবং গ্লোবাল ট্যালেন্ট ডেস্টিনেশন।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের মূল শক্তি তরুণ জনগোষ্ঠী: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণ জনগোষ্ঠী। যদি শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে একীভূত করা যায়, তবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী নলেজ ইকোনমি-তে পরিণত হতে পারে।
নতুন বাংলাদেশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; এটি একটি সভ্যতার রূপান্তর-পর্ব; যার মূল প্রোথিত রয়েছে- শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতিতে, মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে সৃজনশীল শিক্ষায়, চাকরিনির্ভর মানসিকতা থেকে উদ্যোক্তা সংস্কৃতিতে, এবং আমদানিনির্ভর প্রযুক্তি থেকে দেশীয় উদ্ভাবনে।
সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আধুনিকায়নের জন্য প্রত্যাশার চেয়েও বেশি নির্দেশনা প্রদান করেছেন বলে মনে করি। এই মুহূর্তে ইউজিসি’র দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং নির্দেশনা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, কাজ করার এখনই সময়। উদাহরণস্বরূপ, গত সপ্তাহে ঢাকায় আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভর ট্র্যাফিক সিস্টেম চালুর কথা বলতে চাই। সরকারের এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিছে, জনগণ সুফল পাচ্ছে এবং জনগণ সরকারকে প্রশংসা করছে। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানে সামনে থেকে সরকারকে সহযোগিতা করুক।
আমাদের দেশেও অনেক মেধাবী শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী রয়েছেন। সুযোগের অভাবে অনেকেই নিজেদের উদ্ভাবন এবং স্টার্ট-আপ প্রকাশ করতে পারছেন না, দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারছেন না। ইউজিসি এ বছরই একটা ইনোভেশন মেলার আয়োজন করতে পারে। আমেরিকা এবং উন্নত দেশগুলোতে নিয়মিতভাবে ইনোভেশন মেলার আয়োজন করা হয়। ইনোভেশন মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী সমাধান জাতির সামনে উপস্থাপন করুক। সেরা উদ্ভাবনগুলোকে পুরস্কৃত করা হোক, প্রয়োজনে অর্থায়ন করা হোক। ইউজিসির নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতিতে অবদান রাখার রোডম্যাপ তৈরি করুক। আমাদের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে অপরিসীম সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে তা বিকশিত করার সুযোগ তৈরি হোক।
প্রধানমন্ত্রী সঠিকভাবেই বুঝতে পেরেছেন যে গতানুগতিক বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ প্রয়োজন নেতৃত্ব, গবেষণাভিত্তিক নীতি এবং উদ্ভাবনমুখী কর্মসূচি। কারণ ভবিষ্যতের বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে সেই জাতি, যারা জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে এগিয়ে থাকবে। বাংলাদেশও সেই পথেই এগোতে পারে, যদি আমরা এখনই সাহসী রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

