সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর হাতে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salah Uddin Ahmed-এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর ও অপমানজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন Nahid Islam। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য জাতির জন্য লজ্জার।
শনিবার (৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, তিন দিন পেরিয়ে গেলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো নিন্দা জানানো হয়নি। ফলে সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে এটিই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বলে ধরে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া মন্তব্য তুলে ধরে বলেন, সীমান্তের বাইরে কোনো ব্যক্তি অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশ তাদের নিজস্ব আইনের মাধ্যমে বিষয়টি মোকাবিলা করবে এবং এমন ঘটনাকে সীমান্ত হত্যা বলা ঠিক হবে না— এমন মন্তব্য করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এনসিপি আহ্বায়ক দাবি করেন, এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের জীবনের অধিকার একটি মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রগুলো তা সংরক্ষণে বাধ্য। একই সঙ্গে জাতিসংঘের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালায়ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অন্যান্য অপরাধ দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার আন্তর্জাতিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, অতীতেও সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে অনুরূপ বক্তব্য দিয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী A. K. Abdul Momen। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশের প্রতি পূর্ববর্তী সরকারের নতজানু নীতির পরিণতি দেশের মানুষ দেখেছে এবং জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী কোনো সরকারের কাছ থেকে এমন অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমদের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।

