রাজধানীর পল্লবীতে স্কুলপড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার বহুল আলোচিত রায় আজ ঘোষণা করা হবে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে রোববার সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকা মহানগর আদালতে আনা হয়েছে। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত তারা হাজতখানায় অবস্থান করছেন।
মামলাটির রায় ঘোষণা করবেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলাটির রায় ঘোষিত হতে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে তারা সক্ষম হয়েছেন। তাই আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্ল্যাহ দাবি করেন, বাদীপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে স্কুলপড়ুয়া শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করেন এবং পরে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান মাত্র পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়।
মামলাটির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দিনই এটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। গত ১ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে একদিনেই ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।

