ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলার রায় আজ বুধবার (১০ জুন) ঘোষণা করবেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব হোসেনের সঙ্গে তামিমা সুলতানা তাম্মির বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ করা হয়, ওই বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মি এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামিপক্ষের রিভিশন আবেদন খারিজ হওয়ার পর ২০ মার্চ বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের মার্চে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তামিমা সুলতানা নিজ পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন, যা গত ৮ এপ্রিল শেষ হয়। সবশেষে ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১০ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দণ্ড দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নাসির হোসেনের পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এবং তামিমা সুলতানার পক্ষে অ্যাডভোকেট মোসলেহ উদ্দিন জসীম অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস প্রার্থনা করেন।
তবে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনানুগভাবে শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলাটির মূল প্রশ্ন হলো তামিমার পূর্ববর্তী বৈবাহিক সম্পর্ক রায়ের সময় পর্যন্ত আইনগতভাবে বহাল ছিল কি না এবং তালাকের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারার আওতায় সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
আইনজীবীদের অভিমত, এ মামলার রায় ভবিষ্যতে তালাক, পারিবারিক আইন এবং দ্বিতীয় বিয়ে-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

