সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ব্যক্তিগত আক্রমণ ও গালিবাজির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের জীবন ও সম্মান রক্ষার জন্য তিনি নীরব থাকলেও কেন তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে, সে প্রশ্ন তুলেছেন।
বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ‘সব দোষ মাহফুজ আলমে’র ইতিবৃত্ত’ শীর্ষক এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে মাহফুজ আলম দাবি করেন, জুলাইপন্থী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি কখনও বক্তব্য দেননি। তবে তার বিরুদ্ধে হওয়া অধিকাংশ বিষোদগার জুলাইয়ের কথিত পক্ষের বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছ থেকেই এসেছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ে নয় মাস দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে যদি তাকে দায়ী করা হয়, তাহলে আগে ও পরে দায়িত্ব পালনকারীরা কেন দায়মুক্ত থাকবেন— এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জামায়াতের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে মাহফুজ আলম বলেন, কোনো একটি রাজনৈতিক শক্তিকে প্রশ্ন করাকে বিভাজনের কারণ হিসেবে দেখানো হলে, সে দায় তিনি এড়িয়ে যাবেন না। তবে তিনি কখনও কোনো বিদ্বেষমূলক বা ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারাকে সমর্থন করেননি বলেও উল্লেখ করেন।
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, নীতিগত ও মতাদর্শগত বিতর্কের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি আক্রমণ ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চলছে, যা উদ্বেগজনক। গত এক বছরে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি ক্রমাগত আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছেন বলে অভিযোগ করেন।
মাহফুজ আলম আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুকামনা ও ফাঁসির দাবিও তোলা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং নীতি ও মতাদর্শভিত্তিক বিতর্কের মাধ্যমে একটি উন্নত বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে মনোযোগী হওয়া উচিত।

