নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রেলপথে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন এবং উচ্চগতির রেল সংযোগ চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোর সঙ্গে রেল সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্য উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তঃদেশীয় সংযোগ সম্প্রসারণ এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে রেলপথকে আরও কার্যকর, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
বাজেট বক্তব্যে তিনি জানান, আধুনিক লোকোমোটিভ, ক্যারেজ ও ওয়াগন সংগ্রহের পাশাপাশি সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে কোচ ও লোকোমোটিভ সংযোজন কার্যক্রমও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু এবং রেলপথের আধুনিকায়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে একটি কর্ডলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার ফলে এ রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
সরকার এ ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

