সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। রোববার (১৪ জুন) তার আটকের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে এবং আরেকটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির আবেদন করে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সরকারি পাসপোর্ট ব্যবহার না করে জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন। এ ধরনের একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দুদক আরও জানিয়েছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় বেনজীর আহমেদের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ৭৬ কোটি টাকারও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জানান, গত ১২ জুন বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে তার আটকের বিষয়ে অবগত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে।
তিনি আরও জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ধারাসহ বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে এনসিবি ঢাকা আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও গ্রেপ্তার-পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এনসিবি আবুধাবির কাছে পাঠানো হবে এবং তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

