বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট ক্রমশ গভীরতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর ২০২৬ সালের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মানবিক নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
একই দিনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) বিষয়ক উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী সংঘাত প্রতিরোধ, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠনে নারীদের অপরিহার্য ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করেন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা খাতে নারীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশ্বব্যাপী সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নারী ও শিশুদের ক্রমবর্ধমান দুর্ভোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি মানবিক সহায়তায় ক্রমবর্ধমান অর্থায়ন ঘাটতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
আগামী ১৮ জুন প্রতিমন্ত্রী ইকোসকের ২০২৬ হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন। একই দিনে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইউএন উইমেনের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

