রাজধানীর Holey Artisan Bakery-এ সংঘটিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলার এক দশক পূর্ণ হলো আজ। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের ওই রেস্তোরাঁয় সশস্ত্র জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। হামলায় ২২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ইতালির নয়জন, জাপানের সাতজন, ভারতের একজন এবং বাংলাদেশের তিনজন নাগরিক ছিলেন। এ ছাড়া জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযান চলাকালে বোমা হামলায় নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।
ঘটনার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১ জুলাই অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ‘নব্য জেএমবি’র সাত সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে আপিল শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, তারা সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও হামলার ষড়যন্ত্র ও বাস্তবায়নে সহায়তার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের একজন আসলাম হোসেন ওরফে র্যাশ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানোর চেষ্টাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। বাকি ছয় আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা গত বছর মামলায় খালাস চেয়ে আপিলের অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। বিষয়টি বর্তমানে সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, হামলার ভয়াবহতা, নির্মমতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয় বিবেচনায় দণ্ডিতদের আমৃত্যু কারাদণ্ডই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত সোয়া ৯টার দিকে গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় ‘নব্য জেএমবি’র পাঁচ জঙ্গি। পরদিন ভোরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয় এবং জিম্মিদের উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়।

