মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নে প্রায় ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের একটি অংশে ধস দেখা দিয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দেড় মাসের মধ্যেই প্রবল স্রোতের কারণে বাঁধের সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গাঁওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে হঠাৎ বাঁধে ধস নামে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই প্রবল স্রোতে একের পর এক সিসি ব্লক নদীতে তলিয়ে যেতে থাকে। এতে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী কাজী বাবুল বলেন, হঠাৎ করেই সিসি ব্লকগুলো নদীতে ধসে পড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাগর জানান, ধসের খবর পাওয়ার পরপরই তিনি পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নদীভাঙনে অতীতে ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল লতিফ খান, রিতা রাণী দে ও মনির চন্দ্র দে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গাঁওদিয়া বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মো. শওকত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের নদীভাঙনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির আশায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধে ধস দেখা দেওয়ায় মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার বা তদারকির ঘাটতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ব্লক বসিয়ে সাময়িক সমাধান নয়, বরং পুরো প্রকল্পের নকশা, নির্মাণমান ও ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান যাচাই করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনার পর সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু। তিনি জানান, ধসের খবর পাওয়ার পরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলে তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটি ২০২১ সালের অক্টোবরে শুরু হয়। প্রায় ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নির্মিত এই প্রকল্পের কাজ শুরু থেকেই ধীরগতির অভিযোগ ছিল। বর্ষার শুরুতেই স্থায়ী বাঁধের একাংশে ধসের ঘটনায় প্রকল্পের নির্মাণমান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত তদন্ত এবং টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

