টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ধনবাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পথচারীদের প্রতিদিনই দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধনবাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার, ধনবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো এবং ধনবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পাশেও ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এসব বর্জ্য থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে গরম ও রৌদ্রের সময় দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শ্রেণিকক্ষের জানালা খোলা রাখলে ময়লার দুর্গন্ধে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা নাক চেপে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নোহান ও মো. সোয়াদ জানায়, ময়লার দুর্গন্ধের কারণে তারা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারে না। বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা করতেও সমস্যা হয়। উৎকট গন্ধে মাঝেমধ্যে তাদের বমি বমি ভাব হয়।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার জানায়, দরজা-জানালা বন্ধ করেও নাক চেপে ক্লাস করতে হয়। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ময়লা-আবর্জনার কারণে টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারে না। এতে শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত বিদ্যালয়ের পাশ থেকে ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ধনবাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ে ৩৩১ জন শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। ময়লার স্তূপের দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ সময়ের তুলনায় রোদ ও গরমের সময় দুর্গন্ধ আরও প্রকট হয়। দ্রুত এর সমাধান প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মোহাব্বত বলেন, তিনি নিয়মিত ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। ময়লার ভাগাড় থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। এখান থেকে ময়লা সরিয়ে নেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন হাসান বলেন, ময়লা-আবর্জনা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বর্জ্য থেকে বায়ুদূষণ ও পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি জন্ডিস, টাইফয়েড ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শিশুদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব বেশি পড়তে পারে।
শুধু ধনবাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই নয়, ধনবাড়ী পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চালাষ এলাকাতেও একইভাবে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ধনবাড়ী পৌর প্রশাসক দিল আফরোজ বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে ময়লা ফেলার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

