দেশের চলমান তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে শিল্প কারখানায় উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে দেশের শিল্প খাত গভীর বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংলাপে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ‘গরিবের টেসলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এগুলোর বেশির ভাগই রাত ১২টার পর অবৈধভাবে চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুতের পিক আওয়ার বদলে যাচ্ছে এবং মোট চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাচ্ছে। তিনি জানান, তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দিতে নতুন নীতি করা হচ্ছে এবং সৌরবিদ্যুৎকে উৎসাহিত করতে সোলার ব্যাটারি ও ইনভার্টারের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করাসহ ৫ বছরের ট্যাক্স হলিডে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৯ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পূর্ণাঙ্গ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আগামী সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার সিনিয়র গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবির। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ৮৪ শতাংশই আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার মাত্র ৪.৫ শতাংশ। এই অতিরিক্ত আমদানি–নির্ভরতার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে সিপিডি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও স্ট্র্যাটেজিক ফুয়েল রিজার্ভ গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, সংকটের কারণে পোশাক খাতের বিদেশি অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি শিল্প রক্ষায় জরুরি ‘রেসকিউ প্যাকেজ’ দাবি করেন।
সংলাপে বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে দ্রুত স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের তাগিদ দেন। বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ ১৩ লাখ ডিজেলচালিত সেচপাম্প সোলারে রূপান্তরের প্রস্তাব করেন। এছাড়া জ্বালানি–বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন সরকারের সঠিক মূল্যনীতির অভাব ও অতিরিক্ত সামাজিক প্রতিশ্রুতিকে এই সংকটের জন্য দায়ী করেন। সিপিডির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর শিল্প খাতে জ্বালানি বণ্টনে স্পষ্ট অগ্রাধিকার এবং লোডশেডিংয়ের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানান। সংলাপে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক সাকিব বিন আমিন এবং সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা।

