সমাজের অসহায়, অবহেলিত ও জরুরি প্রয়োজনে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে ফরিদপুরে শুরু হয়েছে একটি মানবিক উদ্যোগ। দূরে থাকা সন্তানদের পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে প্রবীণ বাবা-মা, অসুস্থ ব্যক্তি ও জরুরি প্রয়োজনে থাকা মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এ কার্যক্রম শুরু করেছেন।
তরুণ সংগঠক খায়রুল ইসলাম রোমানের নেতৃত্বে উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো জরুরি সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দূরে থাকা স্বজনদের পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
উদ্যোক্তারা জানান, কর্মব্যস্ততা কিংবা ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে অনেক সন্তান ও স্বজন চাইলেও প্রবীণ বাবা-মা বা অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনের সময় পাশে থাকতে পারেন না। বিশেষ করে জরুরি ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এই বাস্তবতা থেকেই উদ্যোগটির ভাবনা এসেছে।
কার্যক্রমের আওতায় প্রয়োজনের মুহূর্তে মানুষের বাড়িতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। স্বেচ্ছাশ্রম ও মানবিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে পরিচালিত এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য, অর্থের অভাবে কোনো অসহায় মানুষ যেন জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
উদ্যোগটির নেতৃত্বে থাকা খায়রুল ইসলাম রোমান বলেন, মানুষের বিপদের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। অনেক মানুষ রয়েছেন, যাদের আপনজন দূরে থাকেন এবং জরুরি সময়ে পাশে থাকার সুযোগ পান না। তাঁদের জন্য সামান্য সহযোগিতাও বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে। সেই ভাবনা থেকেই এ উদ্যোগের পথচলা।
এ কার্যক্রমের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত আছেন জাহিদুজ্জামান জাহিদ। তাঁর পরামর্শ ও সহযোগিতায় উদ্যোগটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্যোক্তারা জানান, এটি শুধু একটি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম নয়; বরং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সম্মিলিত প্রয়াস। ভবিষ্যতে ফরিদপুরের আরও বেশি মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে কার্যক্রমটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তাঁরা সমাজের বিত্তবান, ব্যবসায়ী, প্রবাসী এবং মানবিক ও সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের এ উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে কার্যক্রমটি আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

