সরকারি চাকরির ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইবা) নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্র শক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘ভাইবা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটা গেছে যেদিকে, ভাইবা যাবে সেদিকে’, ‘ভাইবা নামে দলীয়করণ, চলবে না চলবে না’ এবং ‘সুপারিশের প্রহসন, চলবে না চলবে না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে অবিলম্বে ভাইবার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা। দাবি মেনে না নিলে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভে শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আবছার উদ্দিন ইফতি বলেন, “১১-২০তম গ্রেডের চাকরির ভাইভাতে ৪০ মার্ক বৃদ্ধি করে সরকার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত বলে দিচ্ছে সরকার মেধাবীদের বাদ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। চব্বিশ পরবর্তী সময়ে একটা সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চেয়েছিলাম, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর মেধাবীদের বাদ দিয়ে, যে পাঁয়তারা শুরু করেছে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সরকারকে বলছি এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন নইলে আমরা চব্বিশের মত ঐ পথে যেতে বাধ্য হব।”
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক নাঈম ভূঁইয়া বলেন, “একটা দল কীভাবে প্রত্যেকটা জায়গায় দলীয়করণ করে, তার উদাহরণ আপনি চারদিকে তাকালে দেখতে পারবেন। এমন কোনো সেক্টর নাই, প্রতিষ্ঠান নাই, যেখানে দলীয়করণ করা হয় নাই। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও এমন দলীয়করণ দেখি নাই, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৪০০ শহিদের উপর দাঁড়িয়ে সরকার সর্বোচ্চ দলীয়করণ করেছে। চাকরিতে ১১-২০ গ্রেড কর্মচারী পর্যন্তও দলীয়করণ করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলে দিতে চাই আপনি যদি সেই ফ্যাসিবাদী কায়দায় ফিরে যেতে চান, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সেটা মেনে নিবে না।”
শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, “যে বৈষম্যের কারণে ১৪০০ মানুষ শহিদ হয়েছে, ২০ হাজার পঙ্গুত্ব বরণ করেছে তাদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসে আবার বৈষম্যের পথ বেছে নিয়েছে। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটা একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। সরকার যদি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে এই আন্দোলন দাবানলের মতো সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে আপনাদের পিছনে ফেরার রাস্তাও বন্ধ হয়ে যাবে।”

