কুমিল্লার কোটবাড়ি থেকে নিখোঁজ কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার শরীরে একটি শেয়াল কামড়াচ্ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার পশ্চিম সানন্দার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী আরিফুল ইসলামের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় তিনি অপ্রতীমের শরীরে শেয়ালের কামড় দেখতে পান।
আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সকাল থেকেই অপ্রতীমকে খুঁজছিলাম। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে জঙ্গলের মধ্যে একটি শিশু পড়ে থাকার খবর পাই। তখন আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, অপ্রতীম পড়ে আছে এবং তাকে একটি শেয়াল কামড়াচ্ছিল।’
এদিকে এ ঘটনায় তুহিন নামে এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ। কোটবাড়ি থানার ইন্সপেক্টর মহিবুল আলম ভুঁইয়া জানান, সিসিটিভি ফুটেজে ওই যুবককে গতকাল রাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অপ্রতীমের সঙ্গে দেখা গেছে। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
নিহত অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও লেখক ড. নাহিদা বেগম এবং কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের সময় মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর পরিবারের সদস্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে অভিযান চালায়। এ ঘটনায় অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে পুলিশ। অপ্রতীমের মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।

