দেশের ২৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাদেমিয়া কলাবোরেশন-২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সাথে শিল্প খাতের সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ‘শিক্ষা-শিল্পের ঐকতান: কর্মসংস্থানের সমাধান’ প্রতিপাদ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী মর্যাদা) অধ্যাপক ড. রাসেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান।
সভায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এ জন্য পাঠ্যক্রমের সাথে শিল্প খাতের চাহিদার সমন্বয় এবং গবেষণা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাসেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের শিক্ষা ও গবেষণাব্যবস্থায় উদ্ভাবন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে স্টার্টআপ খাতে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষকদের একটি করে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষাকে আরও আনন্দময় ও প্রযুক্তিনির্ভর করা যায়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা অর্জন, সংস্কৃতিচর্চা ও খেলাধুলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য শিক্ষাক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে।
এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি সফরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের মেধাবীদের সাথে মতবিনিময়ের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর কয়েকজন বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে চিন্তা-চেতনা ও ধারণায় মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষাক্রমে এসব পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটাতে না পারলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি করতে পারবেন না। গবেষণা, একাডেমিক কার্যক্রম ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত।
উপাচার্য আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ একাডেমিক কর্তৃপক্ষ একাডেমিক কাউন্সিল প্রতিটি ডিসিপ্লিনের পাঠ্যক্রমে তিন ক্রেডিটের ১০০ নম্বরের একটি করে শিল্পসংশ্লিষ্ট কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ, গবেষণা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে উঠবে।
উল্লেখ্য, সভায় স্কয়ার, প্রাণ-আরএফএল, নেস্টল’, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, আনোয়ার ইস্পাত, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, বিআরবি ক্যাবলস, বাংলালিংক, টেলিটক, বিটোপিয়া লিমিটেড, বেনকিউ, টেকনোডেরা, এনসিংগা, টিপি-লিংক, সিটিও টেকনোলজি, এজি ফুড, রাজবাড়ী জুট মিলস, আকিজ রিসোর্স, আকিজ ভেঞ্চার, মাতাদোর, ওয়ালিদ লিফট, বিটি বাংলাদেশ ও গোল্ডেন জুটসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

