সম্পাদিত ও পরিমার্জিত সংবাদ:
মালদ্বীপে বাংলাদেশির মৃত্যু, কক্ষে থাকা তিন প্রবাসীর অনুপস্থিতি ঘিরে সন্দেহ
মালদ্বীপে মো. সজীব (২৭) নামের এক বাংলাদেশির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ কক্ষ থেকে উদ্ধারের সময় সেখানে থাকা তিন প্রবাসীকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে পরিবার। এ ঘটনায় সজীবের মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে স্বজনদের মধ্যে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত সজীব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া উত্তরপাড়া এলাকার পুরাতন মকিমের বাড়ির আবদুল খালেকের ছেলে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মালদ্বীপ থেকে ফোনে তার মৃত্যুর খবর পান বলে জানা গেছে। সজীবের চাচাতো ভাই মো. সোহেল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সজীবকে তার কক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মালদ্বীপের পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।
পরিবারের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় সজীবের সঙ্গে একই কক্ষে থাকা তিন প্রবাসী সেখানে ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশের কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় সজীবের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন স্বজনেরা। তাঁদের আশঙ্কা, তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মালদ্বীপের পুলিশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সজীব অবিবাহিত ছিলেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছিল না বলে দাবি স্বজনদের। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় তিন বছর আগে তিনি মালদ্বীপে পাড়ি জমান। সেখানে উপার্জন করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।
সজীবের আকস্মিক মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার মহালক্ষ্মীপাড়া উত্তরপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও এলাকাবাসী তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সজীবের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার। একই সঙ্গে মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের শনাক্ত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।

