মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টের শুরুটা সহজ ছিল না বাংলাদেশের জন্য। সকালের উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ক্যারিবীয় পেসার জেইডেন সিলস ও শামার জোসেফ শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করেন। তবে সেই চাপ সামলে প্রথম সেশনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। মধ্যাহ্নবিরতির পর দুই উইকেট হারিয়ে ১০২ রান সংগ্রহ করেছে টাইগাররা। প্রথম সেশনে ২৯ ওভার ব্যাট করে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৯৬ রান।
ম্যাচের শুরু থেকেই নতুন বলের গতি ও সুইং দিয়ে বাংলাদেশের ওপেনারদের পরীক্ষা নেন জেইডেন সিলস ও শামার জোসেফ। ইনিংসের শুরুতেই সাজঘরে ফেরেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। সিলসের অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। মাত্র ৭ রানেই শেষ হয় তার ইনিংস।
দলীয় ১০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর চাপ সামাল দেওয়ার দায়িত্ব নেন সাদমান ইসলাম ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। দুজনের ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের জুটিতে আসে ৫৯ রান।
তবে ভালো খেলতে থাকা মুমিনুলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে বড় ধাক্কা দেন ক্যারিবীয়রা। বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড-অফে শামার জোসেফের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৫১ বলে দুই চারের সাহায্যে ২৮ রান করেন মুমিনুল।
আউট হওয়ার আগে এই ম্যাচেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মুমিনুল। বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে এ কীর্তি গড়েন তিনি। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে তার মোট রান দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৯৩।
মুমিনুলের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম সেশনের বাকি সময় আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি সাদমান ও শান্ত। মধ্যাহ্নবিরতিতে সাদমান ৮৯ বলে ৪৬ রান এবং শান্ত ২৮ বলে ১৭ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন।
চোটের কারণে এই টেস্টে খেলছেন না অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় সেশনে সাদমান ও শান্তর জুটি বাংলাদেশকে কতটা এগিয়ে নিতে পারে, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।

