চলতি মাসের শুরু থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ১২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে প্রকাশ্যে মারধর, গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু এবং পরিকল্পিত হত্যার মতো ঘটনাও রয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
সম্প্রতি সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো র্যাবের এক কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ ইয়াসিন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। উল্টো তাকে ধরতে গেলে প্রকাশ্যে বড় ধরনের সহিংসতার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২২ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বক্তব্যে তাকে এমন হুমকি দিতে শোনা যায়।
এর আগে, ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে গিয়ে র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি ধরতে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন র্যাব সদস্যরা। এ সময় এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং কয়েকজন র্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হলেও পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তারা উদ্ধার হন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হওয়ার পরও প্রধান আসামির গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে এবং অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের মতে, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে অবৈধ বসতি ও দখল-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী চক্র গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া চলতি মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের ঘটনা ঘটে। ফটিকছড়িতে গুলিতে একজন নিহত হন। নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় এক অটোরিকশাচালককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় মৃত্যু হয়। অন্যদিকে অক্সিজেন এলাকায় এক ব্যক্তিকে হত্যার পর লাশ টুকরো করার ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
নিহত র্যাব কর্মকর্তার স্ত্রী শামসুন্নাহার বলেন, প্রকাশ্যে একজন আসামির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হুমকি দেওয়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েই বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।

