আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশ পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে এবং জনগণের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের পথ খুলে দেবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তারেক রহমান বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে জনগণ প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবার সেই বঞ্চনার অবসান ঘটানোর সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন স্বাধীনতার সূচনা হয়েছে, তা রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই।”
বক্তব্যে তারেক রহমান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিএনপির অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।
কৃষকদের জন্য আলাদা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, সার, বীজ ও কৃষিঋণ সহজলভ্য করতে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ধানের শীষ বিজয়ী হলে কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। নিবন্ধিত এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণের দায় সরকার গ্রহণ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলসহ অন্যান্য শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা হবে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য আইটি হাব ও আইটি পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর দ্রুত চালুর প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। পাশাপাশি একটি ক্যাডেট কলেজ, মেডিকেল কলেজ এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে বিচার ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে—ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে বিপ্লব ঘটাতে হবে। ধানের শীষকে বিজয়ী করাই হবে দেশ পুনর্গঠনের প্রথম ধাপ।”
এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে জনসভাস্থলে পৌঁছালে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। জনসভাকে ঘিরে পুরো ঠাকুরগাঁও শহর রূপ নেয় জনসমুদ্রে।

