বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনে যদি ইনসাফভিত্তিক সরকার গঠিত হয়, তাহলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি জানান, নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রয়াসে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের পক্ষে জনগণের রায় যদি আল্লাহর মেহেরবানিতে অর্জিত হয়, তাহলে সেই সরকারে নাহিদ ইসলামকে একজন মন্ত্রী হিসেবে আপনারা অবশ্যই দেখতে পাবেন। আমরা সবাই হাতে হাত রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।”
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হচ্ছে ৫ আগস্টের অসম্পূর্ণ কাজ বাস্তবায়নের দিন। যারা রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। তার ভাষায়, দেশের মানুষ আজ জেগে উঠেছে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে— তারা পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তে আর ফিরতে চায় না।
জামায়াত আমির আরও বলেন, জনগণ তথাকথিত বস্তাপচা রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একটি নতুন বাংলাদেশ ও নতুন রাজনৈতিক ধারার উত্থান দেখতে চায়। “আমরা আর জাতিকে কোনো মিথ্যা আশ্বাস দেব না,”—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করাই তাদের অঙ্গীকার।
ক্ষমতায় গেলে জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব জাতির সামনে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের মনে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখনও প্রশমিত হয়নি। এখন নতুন নতুন কার্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, যা তিনি ‘ভুয়া আশ্বাস’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যেভাবে ১০ টাকার চালের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি, তেমনি এসব কার্ডও জনগণ গ্রহণ করবে না।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে এসব ভুয়া আশ্বাসকে ‘লাল কার্ড’ দেখাবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

