জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পুলিশ বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে ‘জনসেবক বাহিনী’ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় কাঠামো ভেঙে বাহিনীকে স্থানীয় পর্যায়ে পুনর্গঠন করা হবে। উপজেলা পর্যায় থেকে নিয়োগ ও পদায়ন কার্যকর করা হবে এবং নারী-পুরুষ সমানসংখ্যক সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিটিভিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া নির্বাচনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ভাষণে নাহিদ ইসলাম ১৮ বছর ঊর্ধ্ব তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গণপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, গত ৫৫ বছরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো বৈষম্য তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানকে তিনি ঐতিহাসিক গণবিদ্রোহ হিসেবে উল্লেখ করেন। বৈষম্য দূর করতে এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে দমন-পীড়ন চালিয়েছে। এনসিপি ক্ষমতায় গেলে গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। ক্ষমতায় গেলে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং লুটপাটকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ‘পাবলিক ট্রাস্ট’-এর আওতায় আনা হবে।
পররাষ্ট্রনীতিতে আত্মমর্যাদাশীল অবস্থান, সার্ক পুনর্জীবন, আসিয়ানে যোগদানের প্রচেষ্টা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিচার বিভাগ সংস্কার, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, নারী অধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সংস্কারের অঙ্গীকার করেন নাহিদ ইসলাম।

