বাংলাদেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি একটি সম্ভাবনাময় ও দ্রুত বিকাশমান প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি, দক্ষতাভিত্তিক পাঠদান এবং গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের শিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতায় গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি ইতোমধ্যে দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০’ অনুযায়ী সরকার অনুমোদিত এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) স্বীকৃত। প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই আস্থার জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়।
২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি ধারাবাহিকভাবে নতুন বিভাগ ও প্রোগ্রাম চালু করে আসছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি সফলভাবে দুটি সমাবর্তন সম্পন্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হলো— তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদান করা এবং গবেষণামুখী ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।
স্থায়ী ক্যাম্পাস ও অবকাঠামো: সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস ঢাকার খিলগাঁওয়ের ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাসেরকান্দি এলাকায় অবস্থিত। প্রায় দুই একর জমির ওপর আধুনিক অবকাঠামো নিয়ে গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পাসটি ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম এই স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ঢাকার ১৪৭/আই গ্রীন রোড, পান্থপথ এবং ১৪৬ ওয়ারলেস গেট, মহাখালী ক্যাম্পাসে। আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি ও শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করছে।
বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগ: সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ব্যবসা এবং কলা ও মানবিক—এই তিনটি অনুষদের অধীনে বিভিন্ন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের অধীনে রয়েছে চার বছর মেয়াদী বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি, আর্কিটেকচার এবং অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচার অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ।
ব্যবসা অনুষদের অধীনে রয়েছে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ), এমবিএ ইন অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, এমবিএ ইন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, এমবিএ ইন টেক্সটাইল অ্যান্ড ফ্যাশন মার্কেটিং, মাস্টার্স ইন ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট, রেগুলার মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রাম। অন্যদিকে কলা ও মানবিক অনুষদের অধীনে রয়েছে এলএলবি, এলএলএম, বিএ (অনার্স) ইন বাংলা এবং জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ।
আধুনিক লাইব্রেরি ও গবেষণা সুবিধা: শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণাকে সমর্থন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি আধুনিক লাইব্রেরি রয়েছে—একটি গ্রীন রোডে এবং অন্যটি মহাখালীতে। লাইব্রেরিগুলোতে ১৫ হাজারের বেশি বই, জার্নাল, গবেষণাপত্র, থিসিস এবং ই-বুক সংরক্ষিত রয়েছে। লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হচ্ছে কোহা লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং ডিস্পেস। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই প্রয়োজনীয় বই ও গবেষণা উপকরণ খুঁজে পেতে পারে। গবেষণামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর রিসার্স, ট্রেইনিং অ্যান্ড কন্সালটেন্সি (সিআরটিসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ল্যাবরেটরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা: সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন বিভাগের জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। সিভিল, মেকানিক্যাল, কম্পিউটার, টেক্সটাইল ও আর্কিটেকচারসহ প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা ল্যাব রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে। এর ফলে তত্ত্বের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ডিজিটাল শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের সুবিধা: ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইআরপি সিস্টেম চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ভর্তি, ক্লাস সূচি ও ফলাফলসহ বিভিন্ন তথ্য সহজেই জানতে পারে। পাশাপাশি ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ও ই-লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের আধুনিক ডিজিটাল সুবিধা প্রদান করছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস সার্ভিস রয়েছে। ঢাকা শহর ও আশপাশের এলাকায় ২০টির বেশি বাস নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা প্রদান করে।

বৃত্তি ও সহশিক্ষা কার্যক্রম: মেধা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা ৫০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পায়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ক্যারিয়ার মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সামাজিক কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০০-এর বেশি শিক্ষক কর্মরত আছেন।
প্রশাসনিক নেতৃত্ব: বর্তমানে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর শামীম আরা হাসান। উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর বুলবুল আহমেদ এবং ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম।
বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) প্রফেসর হাবিবুর রহমান কামাল, এনডিসি, পিএসসি। বিজনেস অনুষদের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ আল-আমিন মোল্লা এবং কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ. এস. এম. তারিক ইকবাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় ট্রাস্টি বোর্ড, সিন্ডিকেট এবং একাডেমিক কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
শিক্ষার মান ও দক্ষতা উন্নয়ন: বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে কারিকুলাম রিভিউ করা হয়। প্রতি দুই থেকে তিন বছর অন্তর শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞ, একাডেমিক উপদেষ্টা ও অ্যালামনাইদের মতামতের ভিত্তিতে সিলেবাস হালনাগাদ করা হয়। শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এফডিপি), আউটকাম বেসড এডুকেশন (ওবিই) বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাদান পদ্ধতির ওপর কর্মশালা আয়োজন করা হয়।ৎ

দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজেক্টভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট চালু করা হয়েছে। এছাড়া বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ স্নাতক পড়াশোনা শেষ করার ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে কর্মসংস্থানে যুক্ত হন। এই হার আরও বাড়াতে ক্যারিয়ার সাপোর্ট জোরদার এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৈতিকতা ও একাডেমিক শৃঙ্খলা: একাডেমিক সততা বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ইন্টিগ্রিটি পলিসি প্রণয়ন করা হয়েছে। গবেষণা ও অ্যাসাইনমেন্টে মৌলিকতা নিশ্চিত করতে প্ল্যাজারিজম ডিটেকশন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত আচরণবিধি অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত: প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি দেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। ২০২৫ সালে স্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও সমৃদ্ধ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনাময় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন 01933669966 এবং ভিজিট করুন su.edu.bd

