দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ এসেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর এবার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তাদের জ্যেষ্ঠ পুত্র, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। পরবর্তী সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান, মুহাম্মদ মনসুর আলী, শাহ আজিজুর রহমান, আতাউর রহমান খান, মিজানুর রহমান চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, কাজী জাফর আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা পর্যায়ক্রমে এই দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া দু’বার এবং শেখ হাসিনা পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনের একটি দীর্ঘ সময় তারেক রহমানকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে। ১/১১–পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মুখে তাকে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানের পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী সরকার পতনের পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তিনি হারান তার মা বেগম খালেদা জিয়াকে। গভীর শোক নিয়েই তাকে নামতে হয় নির্বাচনী মাঠে।
প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই দুটি আসনে বিজয়ী হন তারেক রহমান। বগুড়া-৬ আসনে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিতে বিজয়ী হয়ে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। ঢাকা-১৭ আসনেও তিনি নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে বগুড়া-৬ আসনটি রেখে ঢাকা-১৭ আসন ছেড়ে দেওয়ায় ওই আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ও প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তাদের সমর্থিত জোট ২১২টির বেশি আসনে জয় পেয়েছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়েই বিএনপি সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিশ্চিত হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে তারেক রহমানের ব্যতিক্রমী নেতৃত্বের ধরন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বুলেটপ্রুফ গাড়ি পরিহার করে বাসে চলাচল, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশা, মঞ্চে প্রচলিত ভাষণধারা ভেঙে জনতার ভেতরে গিয়ে বক্তব্য—সব মিলিয়ে তিনি রাজনীতিতে ভিন্ন এক ধারা উপস্থাপন করেন। নির্বাচনের পর প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও তার রাজনৈতিক পরিপক্বতার বার্তা দেয়।
দেশে ফিরে প্রথম ভাষণেই তারেক রহমান ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ঘোষণা দিয়ে আলোচনার সূচনা করেন। পরবর্তীতে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব, পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দুর্নীতিবিরোধী নীতির মাধ্যমে তিনি তার ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা তুলে ধরেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত ক্যারিশমার সমন্বয়েই বিএনপিকে ভূমিধ্বস বিজয়ের পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান।

