কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) স্বতন্ত্র ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এক অনুপ্রেরণাদায়ক সাফল্যের গল্প আলোচনায় এসেছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, অনলাইন নির্ভর প্রস্তুতি এবং পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কৃষিকাজ—সব বাধা অতিক্রম করে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শিক্ষার্থী আব্দুল মোত্তালেব ১৪০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) প্রকাশিত ফলাফলে তিনি মোট ১০৭.৭৫ নম্বর পেয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করেন। এর মধ্যে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশে তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৭.৭৫। এবারের ভর্তি পরীক্ষা ১৪০ নম্বরের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১০০ নম্বর ছিল এমসিকিউ এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ধারিত ছিল ৪০ নম্বর।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদের অধীনে চারটি বিভাগের ৩৩০টি আসনের বিপরীতে সমসংখ্যক শিক্ষার্থীকে মেধাতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ইউনিটে মোট ২ হাজার ৩৯ জন আবেদনকারীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৮৮৬ জন, যা উপস্থিতির হার প্রায় ৯২.৫ শতাংশ।
তবে মোত্তালেবের এই অর্জন কেবল নম্বরের সাফল্য নয়; এটি এক সংগ্রামী জীবনের প্রতিচ্ছবি। রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ১ নম্বর খোড়াগাছ ইউনিয়নের একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। তিনি আকিজ কোম্পানি পরিচালিত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) মাদ্রাসা অ্যান্ড কলেজ থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।
অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি নিয়মিত অফলাইন কোচিংয়ের সুযোগ পাননি। ফলে অনলাইনে ‘দিগন্ত কোচিং’-এ ভর্তি হয়ে দীর্ঘদিন প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
নিজের এই পথচলার কথা বলতে গিয়ে মোত্তালেব বলেন, “পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে দিগন্তে অনলাইনে ভর্তি হয়েছিলাম এবং দীর্ঘদিন সেখানেই পড়েছি। আর্থিক সমস্যার কারণে অফলাইনে ক্লাস করতে পারিনি। বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেছি। পরে ঈদের সময় কয়েকদিনের জন্য এসে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছি। শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা ও পরিশ্রমেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতেই আমি এ অবস্থানে পৌঁছেছি।”

