পর্যাপ্ত কয়লা মজুত থাকা সত্ত্বেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেলে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই অচল হয়ে পড়ে। এতে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৮ জেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে আসায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায়। ফলে রাত ১০টা ১০ মিনিটে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মেরামত কাজ চলছে এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, এর আগেই ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির সব ইউনিটই অচল অবস্থায় রয়েছে।
২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পাশে স্থাপিত এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শুরুতে দুটি ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিট দিয়ে ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন করত। পরে ২০১৭ সালে আরও ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট যুক্ত হয়ে মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াটে। তবে নানা ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটি কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি।
এদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় উৎপাদিত কয়লা নিয়ে বিপাকে পড়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ। খনির ইয়ার্ডে কয়লা রাখার সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ২ লাখ ২০ হাজার টন হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন কয়লা মজুত রয়েছে। খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৭শ টন কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে, কিন্তু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে বিকল্প সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
সাধারণত এই কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট একসঙ্গে চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ২শ টন কয়লার প্রয়োজন হয়। কিন্তু একসঙ্গে সব ইউনিট সচল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কয়লার মজুত বেড়ে চলেছে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও চাহিদা পূরণ হচ্ছে না, ফলে সকাল, ভোর ও গভীর রাতেও লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।

