ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপির নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান এই সিদ্ধান্ত জানান।
জানা যায়, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর কৃষি ব্যাংকে যোগদান করেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরের পর তিন বছর পূর্ণ না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করা যায় না। এই কারণেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল) জামায়াত জোটের ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। মনিরা শারমিনকে চাকরি-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, এনসিপির আরেক নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট বিলম্বে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তা গ্রহণ করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে জামায়াত জোটের নারী আসনের সংখ্যা কমে যেতে পারে। পূর্বনির্ধারিত ১৩টি আসনের পরিবর্তে তা ১২টিতে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে একটি আসন উন্মুক্ত হিসেবে নতুন তফসিলে নির্বাচনের আওতায় আসবে, যেখানে বিএনপি জোট এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দিনের বাছাই প্রক্রিয়ায় বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র মোর্চার একজন প্রার্থীসহ মোট ৪৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় একটি ব্যতিক্রমী মানবিক ঘটনারও সৃষ্টি হয়েছে। নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসায় দানবাক্স ভেঙে চুরির চেষ্টা করার সময় এক যুবককে স্থানীয়রা আটক করে। তবে তাকে শারীরিক শাস্তি না দিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অজু করিয়ে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন এবং তাকে সংশোধনের সুযোগ দেন।
মাদ্রাসার দায়িত্বশীলরা জানান, শাস্তির চেয়ে সংশোধনই গুরুত্বপূর্ণ। ওই যুবক নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক প্রশংসা পায় এবং মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

