ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অলিক কুমারের একটি ছবির ক্যাপশনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি কৃষ্ণচূড়া ফুলের সঙ্গে তোলা একটি ছবিতে ‘ফাতেমাচূড়া’ শব্দ ব্যবহার করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় সংগঠন ‘লাইট অব কুরআন’ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংগঠনটির পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘ফাতেমা’ শব্দটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.)-কে ইঙ্গিত করে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী এটিকে ‘স্যাটায়ার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং এর আগেও তার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ রয়েছে।
সংগঠনটি দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অলিক কুমার বলেন, মাওলানা ভাসানীর একটি উক্তি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি শব্দটি ব্যবহার করেছেন এবং এটি সজীবতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ধর্মীয় উদ্দেশ্য এতে ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “ভাসানীর ‘শুনো, ধর্ম আর দেশ মিলাইতে যেও না। পরে ফুলের নাম কী দিবা, ফাতেমা-চূড়া?’ উক্তি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটি লিখেছি। তবে এতে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”
স্মারকলিপি গ্রহণের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “এ ধরনের বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টর বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন।”
এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শুনেছেন, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃষ্ণচূড়া ফুলের সঙ্গে তোলা একটি ছবির ক্যাপশনে ‘ফাতেমাচূড়া’ লিখেছিলেন অলিক কুমার। পরবর্তীতে বিতর্কের মুখে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।

