বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে মো. রাফি মন্ডল (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে চারটার দিকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের চন্ডেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাফি ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের নাটাবাড়ী গ্রামের বুলু মন্ডলের ছেলে। আহত জাহাঙ্গীর একই উপজেলার বড়বিলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী ও আব্দুল জলিল যৌথভাবে একটি সেচ পাম্প পরিচালনা করেন। চুরির ঘটনা ঠেকাতে তারা পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের সঙ্গে বিশেষ সতর্কবার্তা ডিভাইস বা অ্যালার্ম সংযুক্ত করেছিলেন। গভীর রাতে রাফি ও জাহাঙ্গীর ট্রান্সফরমারটি চুরি করার চেষ্টা করলে ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকদের মুঠোফোনে সংকেত পাঠায়।
সংকেত পেয়ে মালিকপক্ষ চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পরে তারা চারদিক থেকে ঘেরাও করে ওই দুই যুবককে আটক করে। এসময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দুজনই গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফি মন্ডলের মৃত্যু হয়। আহত জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে শেরপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

