রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার আজ আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেবেন।
বুধবার (৩ জুন) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বেলা ১১টার দিকে মামলাটির শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এদিন সকাল ৮টার দিকে দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। প্রথমে তাদের মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বেলা পৌনে ১১টার দিকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) মামলার রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর মাধ্যমে মাত্র একদিনেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তীতে মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। পরে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২১ মে সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রামিসার পরিবার পল্লবী থানার সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত। তার বাবা বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। নিহত রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

