নোয়াখালীর সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নে জুয়া ও মাদককেন্দ্রিক বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ছেলে ও ভাতিজাকে রক্ষা করতে গিয়ে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় কামাল উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় নিহতের পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লচি সর্দার বাড়ি এলাকায় ইমাম উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য নিয়মিত জুয়া ও মাদকের আসর বসাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেন স্থানীয় যুবক ফরহাদ ও তারেক। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফরহাদ ও তারেককে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যান গাছ ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ইমাম উদ্দিনের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত কামাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত কামাল উদ্দিন দাদপুর ইউনিয়নের লচি সর্দার বাড়ির মৃত মো. সোলেমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাছের ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাবেক ইউপি সদস্য মো. তোফায়েল ও স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম জানান, ফরহাদ ও তারেক অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। তাদের রক্ষা করতে গেলে কামাল উদ্দিনের ওপরও হামলা চালানো হয়। ছেলে ও ভাতিজাকে বাঁচাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পাঁচ দিন পরও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম চন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় একজনের মৃত্যুর অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

