ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে কয়েকটি কেন্দ্রে সপ্তাহে মাত্র একদিন সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও আয়া ছাড়া অন্য কোনো কর্মী না থাকায় কেন্দ্রগুলো কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এতে পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
রোববার (৭ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাকে একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। গট্টি ও ভাওয়াল, আটঘর ও রামকান্তপুর, সোনাপুর ও মাঝারদিয়া এবং বল্লভদী ও যদুনন্দী কেন্দ্র একই জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সব কেন্দ্রে নিয়মিত সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গট্টি, আটঘর, রামকান্তপুর, ভাওয়াল, মাঝারদিয়া, সোনাপুর, যদুনন্দী ও বল্লভদী ইউনিয়নসহ মোট নয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা, গর্ভকালীন সেবা, প্রসব-পরবর্তী পরামর্শ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। তবে জনবল ঘাটতির কারণে এসব সেবার মান ও পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, নয়টি কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বর্তমানে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রয়েছেন মাত্র চারজন। এছাড়া উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও ফার্মাসিস্টের সব পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরীর সাতটি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। একই সঙ্গে আয়ার দুটি পদও খালি রয়েছে।
রামকান্তপুর এলাকার সেবাগ্রহীতা আসমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ওষুধের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এলেও অধিকাংশ সময় খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।
সোনাতনী এলাকার মজিবর মিয়া বলেন, কেন্দ্রটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। সপ্তাহে একদিন খোলা হলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না।
সেবা নিতে আসা কুলসুম বেগম বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র কখন খোলা থাকে আর কখন বন্ধ থাকে তা বোঝা কঠিন। দরিদ্র মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া বড় কষ্টের বিষয়।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটের পাশাপাশি ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীরও ঘাটতি রয়েছে। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া জরুরি। তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বরের পর থেকে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগ এবং নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা আরও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে।

