ভিসা জটিলতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্বকাপ খেলতে মেক্সিকো পৌঁছেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। মেক্সিকোর উদ্দেশে তুরস্ক ছাড়ার আগে ইরানি ফুটবলারদের পবিত্র কোরআনে চুমু দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা সমর্থকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।
রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তবর্তী মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহরে অবতরণ করে ‘টিম মেল্লি’। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলটি এর আগে প্রায় তিন সপ্তাহ তুরস্কে অনুশীলন করেছে। সেখান থেকেই রাতভর ফ্লাইটে মেক্সিকোতে পৌঁছায় তারা।
তিহুয়ানা বিমানবন্দরে ইরান দলকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন একদল সমর্থক। তাদের মধ্যে তিহুয়ানার বাসিন্দা ও পেশায় মেকানিক সাদেগ গালাভি বলেন, জাতীয় দলকে নিজের শহরে দেখতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। জাতীয় দলের সাদা জার্সি পরে তিনি জানান, নিজের দেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানানো তার জন্য গর্বের বিষয়।
তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইরান দল। খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পেলেও প্রতিনিধি দলের কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো ভিসা পাননি। জানা গেছে, প্রায় ১৫ জন কর্মকর্তা ভিসা জটিলতার মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজও রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন সমর্থক গালাভি। তার মতে, খেলাধুলা হওয়া উচিত শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতীক, যেখানে রাজনৈতিক বিষয়গুলোর প্রভাব থাকা উচিত নয়।
ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা শুরু হয় চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর। একপর্যায়ে দলটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত ফিফার সিদ্ধান্তে ইরান টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। নিরাপত্তা ও পরিস্থিতিগত কারণে দলটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার পরিবর্তে নিজেদের বেস ক্যাম্প সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় স্থাপন করেছে।
মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক ও চাপের মধ্যেও ইরানের সমর্থকরা আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস, এসব প্রতিকূলতা দলকে দুর্বল না করে আরও দৃঢ় করবে। অনেকেই আশা করছেন, নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসরের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হবে ইরান।
দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিহুয়ানায় ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মেক্সিকান পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়দের হোটেল ও অনুশীলন ভেন্যুতে নেওয়া হয়। সমর্থকদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিহুয়ানাই দলের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।

