ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে জার্মান জাতীয় দলের প্রতি নিজের ভালোবাসার অনন্য বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন মাগুরার আমজাদ হোসেন। প্রতি বিশ্বকাপের মতো এবারও তিনি প্রদর্শন করেছেন জার্মানির দীর্ঘ পতাকা। এবারের পতাকার দৈর্ঘ্য সাড়ে ৭ কিলোমিটার।
বুধবার সকাল ১০টায় মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাই স্কুল মাঠে নিজ এলাকায় এ পতাকা প্রদর্শন করেন আমজাদ হোসেন। পতাকা দেখতে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত মানুষ মাঠে ভিড় করেন। উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, আমজাদের ফুটবলপ্রেম বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ।
মাগুরা সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, জার্মানির প্রতি তার ভালোবাসার শুরু ১৯৮৭ সালে। সে সময় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর জার্মান হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর থেকেই জার্মানি ও দেশটির ফুটবল দলের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ তৈরি হয়।
আমজাদের দাবি, এই ভালোবাসার প্রতীক হিসেবেই তিনি নিজ খরচে বিশাল আকৃতির পতাকা তৈরি করে আসছেন। এবারের সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরিতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। এ জন্য তিনি নিজের কিছু জমিও বিক্রি করেছেন। তবে এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই।
তিনি জানান, ২০১৪ সালে প্রথম সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করেছিলেন। এরপর ধাপে ধাপে পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়িয়েছেন। তিনজন দর্জিকে দিয়ে প্রথম পতাকা তৈরি করলেও এবার আরও কয়েকজন দর্জিকে সঙ্গে নিয়ে সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করা হয়েছে।
আমজাদ হোসেন বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হলে ২০৩০ বিশ্বকাপে তিনি ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করবেন, যা মাগুরা শহরের ভায়না থেকে সীমাখালী পর্যন্ত সড়কজুড়ে প্রদর্শন করা হবে। তার বিশ্বাস, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলপ্রেমের একটি অনন্য পরিচয় তুলে ধরছে।

