নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে মাটি অপসারণের ফলে সেতুর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদনের কাগজ দেখিয়ে প্রভাবশালী একটি মহল পিলারের গোড়ার মাটি কেটে তা ইটভাটায় বিক্রি করছে। এ বিষয়ে ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। যারা মাটি কাটছে, তারা দাবি করেছে যে প্রকল্পের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির কাছ থেকে তারা ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছে এবং এটি প্রকল্পের অংশ।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুমতি থাকার দাবি করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় আপাতত মাটি কাটার কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, রেলওয়ে কখনো এ ধরনের মাটি কাটার অনুমতি দেয় না এবং এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
তবে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের উপপরিচালক আমিনুল করিম জানান, পিলার নম্বর ৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা আগে জলাশয় ছিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ওই স্থান মাটি ও বালু দিয়ে ভরাট করে ভায়াডাক্ট নির্মাণ সম্পন্ন করে। বর্তমানে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে এলাকাটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে জলাশয় পুনঃখননের কাজ করা হচ্ছিল।

