গেল কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজানের পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে সিলেটের সবকটি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিলা ধসের আশঙ্কাও বেড়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জেলার ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলাকে চিহ্নিত করে সেসব এলাকার পাদদেশে বসবাসরত মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলার সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১০৪ সেন্টিমিটার এবং সিলেট পয়েন্টে ৪৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশীদ, শেওলা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্টে যথাক্রমে ১৩৮, ৮৩, ৩০ ও ৬৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সারিগোয়াইন নদীর পানি সারিঘাটে ১১৭ সেন্টিমিটার ও গোয়াইনঘাটে ৬০ সেন্টিমিটার, পিয়াইন নদীর পানি জাফলংয়ে ৯৫ সেন্টিমিটার, লোভাছড়ার পানি ১৫২ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি ইসলামপুর পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানান, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের নদ-নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঝুঁকি রয়েছে।
সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক করতে মাইকিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

