বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দে ভাসছে আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের বাইরের একটি বিতর্ক বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রসিকিউটর ও এফবিআই।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে এএফএ-এর বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি, স্পন্সরশিপ থেকে প্রাপ্ত অর্থ এবং সম্প্রচার স্বত্বের আর্থিক লেনদেন গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন। আর্জেন্টিনার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘লা ন্যাসিওন’ জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক সাক্ষীর সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
তবে ক্লদিও তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এএফএ-এর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এছাড়া চলমান তদন্তের কারণে আর্জেন্টিনা দলের বিশ্বকাপ অভিযানে সরাসরি কোনো প্রভাব পড়েনি। যদিও কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই তদন্ত ফেডারেশনের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ‘সুর ফিনানজাস’ নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির পৃথক একটি তদন্তের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ এএফএ সদর দপ্তর এবং কয়েকটি ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করেছিল।
এদিকে মাঠের পারফরম্যান্সে দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে লিওনেল মেসির দল। আটলান্টার মার্সেডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে একসময় তিন গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের শেষ ভাগে মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের নির্ধারক মুহূর্তে লাউতারো মার্টিনেজের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। তার সেই গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। মাঠের বাইরের বিতর্ক সত্ত্বেও এই জয় টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

