টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কুর্শি তিয়া মাথা আইনুদ্দিন বাড়ি থেকে গাড়াখালী হাসান আলী মুন্সির বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ গোপালপুর-ধনবাড়ী সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানি জমে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিদিন এই পথে চলাচলকারী গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুর্শি মধ্যপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কুর্শি নদীর পাড় থেকে গাড়াখালী পর্যন্ত বিস্তৃত এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এলাকার দুইটি উচ্চবিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একমাত্র যাতায়াতের পথ। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মামুন হোসেন আবির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। কোথাও বড় বড় খানাখন্দ, আবার কোথাও কাদা ও পানি জমে থাকায় চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার সংস্কারের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় কৃষক সামাদ, মো. আক্তারসহ কয়েকজন কৃষক জানান, গোপালপুর, ধনবাড়ী ও আশপাশের বিভিন্ন হাটে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সময়মতো বাজারে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় অনেক সময় কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শিক্ষার্থী টুম্পা রানী ও মো. বাদশা জানান, বর্ষাকালে হাঁটুসমান পানি কিংবা কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অনেক সময় পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান। পাইস্কা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য (মেম্বার) মো. বাবলুও সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ধনবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোকাদ্দেস আলী জানান, কুর্শি তিয়া মাথা আইনুদ্দিন বাড়ি থেকে গাড়াখালী হাসান আলী মুন্সির বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য প্রথমে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এরপর প্রস্তাব এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।

