প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল সেবা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন খাতের বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। দেশীয় ও বিদেশি উদ্যোক্তারা যেন আস্থার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী সরকারি সেবা নিশ্চিত করা হবে। এটি সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিনিয়োগকারীদের অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের বিনিয়োগের ফলে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হওয়া এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।
নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা নয়, ব্যবসার সফলতা অনেকাংশে সরকারের প্রবৃদ্ধিবান্ধব নীতি ও কার্যকর প্রশাসনিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে।
বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও কর্মক্ষম জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসমর্থনপুষ্ট নির্বাচিত সরকার—এই চারটি শক্তি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি।
তিনি জানান, সরকার একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নযাত্রায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তুতি শুরু করে। বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়িক সংগঠন ও উন্নয়ন সহযোগীদের মতামতের ভিত্তিতে বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা জোরদার, ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা, করব্যবস্থা সহজীকরণ, অর্জিত মুনাফা বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠন এবং উন্নত অবকাঠামো নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা বৃদ্ধি, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের সংস্কার এবং সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি আস্থা, বিশ্বাস ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার অংশ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

